Volume 1 Issue II
Article Information
Journal: Abhisaron
Volume: 1 | Issue: II | Year: 2026
Pages: 11–18
Accepted:27.06.2026
Published:20.07.2026
আশাপূর্ণা দেবীর ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ উপন্যাসের নারী চরিত্র: বিশ্লেষণী সমীক্ষা / ASHAPURNA DEBIR ‘PRATHAM PROTISRUTI’ UPONASYER NARI CHARITRA: BISHLESHANI SAMIKKHA
মন্দিরা প্রধান / MANDIRA PRADHAN
Abstract:
আশাপূর্ণা দেবীর ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ উপন্যাসে নারীচরিত্র হল মনুষ্যসমাজে এক বিশ্লেষিত উপজীব্য বিষয়। প্রাচীন ইতিহাস থেকে নারীদের অবস্থান সর্বদা নগণ্য মাত্রার চাবিকাঠিতে হিসেব রাখা হয়। নারীকে কোন পর্যায়ে মাত্রাধিক শ্রেষ্ঠ বলে প্রাধান্য দেওয়া যায় না। উনিশ শতকের সাহিত্যিকদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্লট ছিল বিশেষিত এই নারী। আর তাতে আমরা দেখেছি নারীর অবস্থান সাধারণত গৃহে, সেখানে সংসার পরিচালনা,সন্তান-সন্ততি উৎপাদন ও তাদের পরিচর্যা করা এবং পুরুষদের দেখাশোনা ও সেবা শুশ্রূষাতে সারা জীবন অতিবাহিত করা। আমরা প্রাচীনকাল থেকেই দেখে এসেছি সমাজে যত নিয়ম-কানুন যত বাধা বিপত্তি সবই নারীকে ঘিরে। যেমন বহুবিবাহ,সতীদাহ,বাল্যবিবাহ, সমস্ত অসামাজিক প্রথাগুলো নারী নামক নগণ্য প্রাণীর ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু সমাজে নীতিমূলক কাজগুলো সব পুরুষের ওপর পরিচালনা করা হয়েছে, সেটা একটা সমাজে হোক কিংবা একটা সংসারে। তাই তো আজও আমরা দেখতে পাই যে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে পিতাকেই ধরা হয়। সেখানে মাতা যত বড় শিক্ষিতা বা জ্ঞানী হোক না কেন। ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ উপন্যাসে লেখিকা সাধারণত কেন্দ্রীয় চরিত্র সত্যবতীর মধ্য দিয়ে নারীর স্বত্তাধিকার ও নারীশিক্ষা প্রসারের মূল উদ্দেশ্য সফল করেছেন।
তখনকার দিনে প্রতাপশালী পরিবারে আবার কোন কোন নারী অন্তঃপুরের মধ্যে নিজেদের সূচিবায়ুগ্রস্ত রমণী ও নানা রীতি রেওয়াজ অন্তঃপুরের মধ্যে নিজসত্তায় পরিচালনা করতে পিছুটান হয়নি। এই রচনায় কিভাবে এক একটি নারীর গুপ্ত মনের সুপ্ত চিন্তা লুকানো আছে তাও কোন কোন বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা লক্ষ করব। অন্তঃপুরের নারীদের আব্রুর ঘনঘটা এবং নানান কুসংস্কারে আবৃত সারা মহলটি এবং তার প্রতিকার দেখব আমরা সত্যবতী নামক চরিত্রটির মাধ্যমে। পৃথিবীর সৃষ্টি এবং ধ্বংস এই নারী। এই উপন্যাসে কোন নারী সৃষ্টির অংশ এবং কোন নারী ধ্বংসের অংশ তা আমরা পরিচিত হব, বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “সাহিত্যের পথে” প্রবন্ধগ্রন্থে “সাহিত্যের নবত্ব” নামক প্রবন্ধে তিনি বলেছেন যে -“শাশুড়ির শাসনে যার চামড়া শক্ত হয়েছে সেই বউ শাশুড়ি হয়ে উঠে নিজের বধূর পরে শাসন জারি করে যেমন আনন্দ পান।”১ এই উক্তিটি যথাযথ পর্যবেক্ষণ আমরা এই আলোচনাতে মেলাতে পারব। নারী যেমন সৃষ্টিকারী তেমনি কোন কোন নারী ধ্বংসের কারণ, সেখানে পুরুষের ভূমিকা খুবই নগণ্য। এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে আমরা প্রভাবশালী, জ্ঞানযুক্ত,শিক্ষিত, পরোপকারী, স্নেহপরায়ন,সুচিকিৎসক রামকালী এবং তাঁর মেয়ে স্বতন্ত্রা, প্রতিবাদী ,স্নেহপরায়না, জ্ঞানী ও বিবেচক সত্যবতীর চারিত্রিক বিশ্লেষণে জ্ঞাত হব। অন্যান্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র যেমন মোক্ষদা,সারদা,এলোকেশী ইত্যাদি নানান সাজে কেমনভাবে সজ্জিত তা লক্ষ করব। আশাপূর্ণা দেবী সর্বদাই নারী চেতনা উন্মেষের অগ্রদূত ছিলেন। তাই বেশিরভাগ রচনাগুলো তার নারীচেতনা, নারীশিক্ষা ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত। “প্রথম প্রতিশ্রুতি” উপন্যাসটি সেকালের কুসংস্কার পরিবর্তন ও পরিবর্জনের একটি দলীলও বলা যায়। তাই লেখিকা মন্তব্য করেছেন যে নারীজাতির প্রগতি ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গেলে এই গ্রন্থের আলোচনা অবশ্য করতে হবে।
Keywords: সামাজিকতা, কুসংস্কার, প্রতিবাদী, সাহসী, সত্যবাদীতা,সেঁজুতিব্রত,স্বাধীনচেতা, সান্নিপাতিক জ্বর,রক্ষণশীল সমাজ, নারীসমাজ, নারীশিক্ষা, ভুবনেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ,প্রতিকূলতা, বহুবিবাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ, শিক্ষা প্রসার, অপত্য স্নেহ
